আবিরের নরক যন্ত্রণা
কখনও কখনও কোন একটা ঘটনা মানুসের জীবনকে নরক করে তোলে
আমরা নরককে কখনও চোখে দেখি নি, নরক কেবল আমাদের একটা কল্পনা ছাড়া অন্য কিছু নয় … নরক এমন একটি জায়গা যেখানে কেউ বাঁচতে চায় না, আমাদের জ্ঞান অনুসারে নরক ও স্বর্গ তার কৃতকর্মের ফল এবং সেটা জীবদ্দশা তে ই ভোগ কোরতে হয়...... ।
আমার গল্পের নায়কও তার জীবনের এক মাস নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছে, এটা নিয়েই আমার গল্প…
ছেলেটির নাম আবির বোস, সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমার্স বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র, কলেজে বন্ধুদের সাথে হই হুল্লোর করে বেশ দিন কাটত। একদিন দেখল খুব সুন্দর একটি মেয়ে কলেজে নুতন ভরতি হয়েছে, তাকে দেখে তো আর তার চোখের পলক পরেনা তার দিক থেকে চোখ ফেরাতেই পারছিলো না ......
সে তার বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতে এক বন্ধু বললো যে এই মেয়েটি এখানে নতুন এসেছে এবং তার নাম আয়েশা… .. আবিরের অনেক মেয়ে বন্ধু আছে কিন্তু সেই মেয়েটি কে দেখার পর তার রাতের ঘুম চলে গেলো, মেয়েটির সাথে পরিচয় করার জন্য আকুল হয়ে ওঠে..... আবির তারপরে আয়েশাকে সবসময় অনুসরণ করতে থাকে।
এদিকে কোনও ছেলে মেয়েটির কাছে এলে মেয়েটি বিরক্ত প্রকাস করে এবং সে তাকে কটু কথা বলে… ।
অবশেষে একদিন আবির মেয়েটির সাথে কথা বলার জন্য তার কাছে গিয়ে বলে আমি তোমার সাথে আলাপ করতে চাই , মেয়েটি সাথে আবির কে থামিয়ে বললো আমি তো চাই না... মেয়েটি বললো বলুন তো আপনার সমস্যাটি কী? আপনি কী চান এবং ছেলেটি সরাসরি বলেছিল যে আমি তোমাকে ভালবাসি এবং আমার জীবনের অংশীদার হিসাবে তোমাকে পেতে চাই ... মেয়েটি হাসতে শুরু করে এবং বলে আমি আপনার চরিত্র টা খুব ভালভাবে ই জানি নুতন কোন মেয়ে কলেজে এলে আপনি বোধহয় সকলকে একই কথা বলেন আমি জানি আপনার ইতিহাস এবং আমি জানি আপনি কখনও কাউকে ভালোবাসেন না।
আবিরের মন টা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো বললো আমার প্রপোস করার পদ্ধতি টা হয়তো ঠিক নেই কিন্তু আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি। আমি কীভাবে তোমার প্রতি আমার ভালবাসা এবং আন্তরিকতা প্রমাণ করতে পারি তা আমাকে বল ...
আয়েশা জবাব দিলো: আপনি জীবনে আমাকে বিরক্ত করবেন না এবং আমাকে অনুসরণ করবেন না। আবির হতাস হয়ে বলল ঠিক আছে আর আমি তোমাকে বিরক্ত করবো না, আবির ওখান থেকে চলে গেল। প্রায় দিন দশ হবে সে আর আবির কে দেখতে পায় না, একদিন আয়েশা বন্ধুদের জিজ্ঞেস করে যে সেই রমিও(আবির) টা কোথায় রে তোরা কেউ জানিস? তাকে তো অনেকদিন দেখি না.... বন্ধু রা হাসাহাসি করতে আরম্ভ করলো এবং বলছে কিরে প্রেম হয়ে গেলো নাকি? এর মধ্যে এক বন্ধু বললো তুই জানিস না আবির তো হাসপাতালে রয়েছেন ওর অত্যন্ত গুরুতর বইক এক্সিডেন্ট হয়েছে ...... ..
আয়েশা কোন কথা চিন্তা করে সাথে আবীরকে দেখতে হাসপাতালে চলে যায়। গিয়ে দেখে পায়ে প্লাস্টার করা হাসপাতাল এর বেড এ শুয়ে আছে , আয়েশাকে দেখে বলে যে এবার তুমি সন্তুষ্ট তো ? আমি খুব কম কোরে ৬ মাস কলেজে যেতে পারবো না আর তোমার আমাকে দেখতে ও হবেনা আয়েশা তাকে ধমক দিয়ে বলে থামবে এখন । এর পর যে কি হয়েছিল সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না.........
অবশেষে, আবির তার ভালবাসা পেয়েছে এবং তারা আনন্দের সাথে সব সময় একসাথে কাটাতো। তবে খুব খারাপ সময়ও তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল ... হঠাৎ একদিন আবিরের ওয়াটসপে কিছু ছবি আসে এবং সেই ছবিগুলো দেখে আবিরের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। সেখানে একটি ছেলের সাথে আয়েশার কিছু আপত্তিকর ছবি রয়েছে। আবির আয়েশাকে একটি কথাও না বলে চুপচাপ সব কিছু নিজের মনেই চেপে রাখলো। সেই ঘটনা টা তাকে ভেতর থেকে কুড়ে খেতে থাকলো।
আবির আয়েশা কে এরিয়ে যেতে আরম্ভ করলো, আয়েশা কিছুতেই বুঝতে পারে না কি হয়েছে, যতবার আবিরের মুখমুখি হয় ততবার আবির মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়..... এই ভাবে বেশ মাস খানিক চলার পর আয়েশা ভাবলো কি হয়েছে সেটা অবশই আমাকে জানতে হবে।
এক রবিবার সকাল ৮ টা নাগাদ আয়েশা আবিরের বাড়ি চলে গেলো, কলিং বেল বাজাতে আবীর দরজা খুলে আয়েশা কে দেখে বললো কি করতে এসেছ ? আয়েশা বললো ভেতরে ঢুকতে দেবে না বাইরে দাঁড়িয়ে ই চ্যাঁচামেচি করবে ? আবীর দরজা ছেড়ে বললো যা বলার তারাতারি বল,
এবার আয়েশা বললো এত রাগ কিসের জন্য সেটা বলবে ? আবির ও কিছু না এমনি ই, এমনি বললে হবে ? কারন টা আমাকে তো জানতেই হবে, আমি তো কোন ভুল ধারনা নিয়ে থাকতে পারবো না.......
আবির এবার বোলতে আরম্ভ করলো তোমাকে এমন কিছু ছবি দেখাবো বলে ছবিগুলো দেখালো, ছবিগুলো দেখে আয়েশা মাথা গরম না করে আবির কে বললো কোন নাম্বার থেকে ছবি গুলো এসেছে সেই নাম্বার টা একবার দেখাবে ? আবির বললো কি হবে নাম্বার দিয়ে, একবার দেখাও না.... আবির নাম্বার টা দেখাতে আয়েশা বললো আরে এটা তো শুভঙ্কর এর নাম্বার তোমার সঙ্গে ই তো পড়ে ......
আরে মাথামোটা আজ টেকনোলজি র যুগে এরকম ছবি সবাই করতে পারে আমাকে কিছু না বলে বাবু গোসা করে বসে আছেন, তুমি ছবিগলো আমাকে দাও আমি এখনি ওর ছবি এডিট করে তোমার ছবি বসিএ দিচ্ছি, তোমার কি এই ব্যেপারে কোন নলেজ নেই ?
যাগ গে এবার থানায় চল শুভঙ্কর কে একটু জব্দ করতে হবে,
এবার আবির মাথা ঠাণ্ডা করে বললো ছারো, থানায় গেলে ওর কেরিয়ার টা নষ্ট হয়ে যাবে যা করবো কাল কলেজে গিয়ে আমরা ই করবো। আবির নিজের ভুল বুঝতে পেরে মাথা ঠাণ্ডা হলো.......
আগের মতো ওদের জীবন চলতে থাকলো।
আজ আবির প্রতিষ্ঠিত একজন মানুষ দুজনে মিলে ওরা ভালোই সংসার করছে..... সেই এক মাস আবির যে কি নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছে সেটা আজও ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
আরও গল্প পড়ার জন্য নিচের লিংক এ ক্লিক করুন ........
https://manas1952chatterjee.blogspot.com/
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Please do not enter any spam link in the comment box.