আমি তো এরকমই
আমি তো এরকমই
হটাৎ করে আমার গল্প লেখা দেখে আপনারা নিশ্চয় একটু অবাক হচ্ছেন,অবাক হওয়ার ই কথা,
কারন আমি তো কখনো কোন গল্প লেখিনি । ভাবলাম অনেকে তো গল্প লেখেন তাই আমি ও একবার চেষ্টা করেই দেখি না । ব্যাস সঙ্গে সঙ্গে বসে গেলাম আমার জীবনের ছোটবেলার একটি ঘটনা লেখতে , বুড়ো বয়েসে সময় ও কাটবে আর একটা গল্পও লেখা হবে, আমি আমার ছোট ভাই শ্রী তাপস চাটারজী কাছ থেকে এই গল্প লেখার অনুপ্রেরনা পেয়েছি ,একবার পড়েই দেখুন না ভালো লাগে কিনা ।
প্রথমে আমার সম্বন্ধে একটু বলে নি,
আমার বাবা আসামে চা বাগানে র হসপিটালে ফার্মাসিস্ট এর চাকরি করতেন, আর আমরা কম্পানির
কোয়াটারে থাকতাম , আমরা ৪ ভাই বোন , ২ দিদি বড় তারপর আমি ও আমার ছোট ভাই আর আমার মা,
এই ছিল আমাদের পরিবার ।
আজ থেকে প্রায় ৫৩/৫৪ বছর আগেকার কথা , আমার বয়স তখন ১৪/১৫ হবে, তখন মা আমাদের কে নিয়ে শহরে আমাদের পড়াশুনার জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন, শনিবার বাবা আমাদের ওখানে আসতেন এবং রবিবার আবার কাজের জায়গায় ফিরে যেতেন , এই ভাবে ই আমাদের দিন কাটতো ,তখন সবে মাত্র আমার বড়দির বিয়ে হয়েছে ,বিয়ে দিতে গিয়ে বাবার প্রচুর ধার দেনা হয়ে গেছে। বড়দির বিয়ের পর আমরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম সেখান থেকে এর থেকে কম ভাড়ার বাড়িতে আমরা চলে এলাম ।
যেই ঘটনা টার কথা বলবো সেটা আমার নিজের জীবনের ঘটনা ঃ-
সেদিন কোন কারনে আমাদের স্কুল ছুটি ছিল, সকালে পড়াশুনা শেষ করার পর খেলতে বেরবো
এমন সময় মা আমার হাতে আট আনা পয়সা দিয়ে আমাকে বললেন বাবা আমাকে এক ফালি মিষ্টি কুমড়ো
এনে দিয়ে যা না, নাহলে তোদের জন্য কিছু রান্না করতে পারব না ।
আমি ত পয়সা নিয়ে ঠিক আছে বলে বেরিয়ে
গেলাম , ছোটবেলার থেকে ই আমার বল খেলার খুব নেশা ছিল , যাওয়ার সময় দেখি বন্ধু রা মাঠে
বল খেলছে, তখন আমার আর মায়ের কথা মনে নেই, আমি ও বল খেলতে মাঠে নেমে গেছি , এদিকে আর
একটা ঘটনা , খেলতে গিয়ে আমার এক গরীব বন্ধুর শার্ট একদম ছিঁড়ে গেছে বেচারা ছেলেটা তো অঝোরে কান্নাকাটি করতে আরম্ভ করলো
, তখন আমি জিজ্ঞেস করতে ও বলল আমার আর শার্ট নেই
বাড়িতে গেলে মা ভীষণ মারবে , আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার শার্ট টা খুলে ওকে দিয়ে দিলাম
, ও তো চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি চলে গেল আমি ও আমার বাড়ি চলে এলাম, মায়ের কথা একেবারে
ভুলে গেলাম ।
এদিকে খেলার শেষে আমি যখন বাড়ী গেলাম
তখন বেলা ১ টা বেজে গেছে , গিয়ে দেখি মা দরজার
কাছে দাড়িয়ে আছে , আমার হাতে কুমড়ো ও নেই আর গায়ে শার্ট ও নেই মা তো পুরো ঘটনা টা বুঝে
গেছে , কারন এর আগে ও এরকম ঘটনা অনেকবার ঘটেছে,
মায়ের দিকে তাকিএ দেখি মায়ের দু চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে আর বলছে এখন তোদের কে আমি
কি দিয়ে খেতে দেবো, মা আর আমাকে সেদিন কিছু বলেনি , সেদিন কি দিয়ে খেয়েছিলাম আজ আর আমার মনে নেই, কিন্তু
মায়ের সেদিনের মুখটা আমি আর কোনদিন ভুলতে পারবো না। তখন কিন্তু একবারও বুঝিনি আমাদের
অভাবের কথা, বাবা মা আমাদের বুঝতেই দেয়নি, বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি আমাদের জন্য মা বাবা
কি কষ্ট ই না করেছিলো ।
এই গল্প টা লেখতে গিয়ে আমার সেদিনের মায়ের মুখটা মনে পড়ে গেলো আর আমার
চোখ জলে ভিজে গেল। সেদিন মায়ের যে কি অবস্থা
হয়েছিলো , সেটা এখন বাবা হয়ে আমি খুব বুঝতে পারি
, ছেলে মেয়ে রা কিছু আবদার করলে বা দিতে না
পারলে তখন যে মা বাবার কি কষ্ট হয় সেটা একমাত্র
বাবা মায়েরা ই বুঝতে পারে ।
আমি কিন্তু আজ ও একই রকম আছি , জীবনে
অনেক টাকা রোজগার করেছি আবার সকল কে দিয়ে ও দিয়েছি , তার জন্য আমার কনো আফসোস নেই,
এর জন্য আমাকে আজও আমার পরিবারের কাছে কথা শুনতে হয়, আমাকে সবাই বোকা বলে,
কিন্তু
আমি কি করবো আমি তো এরকমই
ভাষাগত কিছু ভুল থাকলে মার্জনা করবেন, কারন আমি কোনোদিন গল্প লেখিনি,
যদি ঘটনা টা ভালো লাগে তাহলে শে য়ার করবেন ঃ-

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Please do not enter any spam link in the comment box.