লুসির ছেলে

 হ্যালো, বন্ধুরা কেমন আছো তোমরা ? আজ আমি তোমাদের কে একটি নতুন গল্প শোনাব, গল্পটির নাম হোল লুসির ছেলে,

তার নাম ছিল জন, এই জন কে নিয়ে ই আজকের গল্পও.............


রবার্ট নামে একজন লোক  ছিলো, সে খুব পরিশ্রমী ছিলো সে স্ত্রী এবং পুত্রের সাথে বসবাস করতো, কিন্তু রবার্ট ওদের সাথে একঘরে ঘুমোতে পছন্দ করতো না, কারণ জন খুব অলস প্রকৃতির ছিল এবং তার স্ত্রীর জন্য জন কে কিছু বলা যেতো না।

রবার্ট প্রতিদিন সকালে সূর্যোদয়ের আগে চার্চে গিয়ে প্রার্থনা করতো এবং তারপরে তার খামারে গিয়ে আগের দিনের সব হিসাব পত্র দেখতো, রবার্ট তার স্ত্রী এবং ছেলের প্রতি খুব বিরক্ত ছিলো, কি করবে ভেবে উঠতে পারছিলো না।

একদিন রবার্ট তার ছেলেকে সকালে ঘুম থেকে তুলে বললো চল বাবা খামারে যাই, তুই গেলে আমার খুব সাহায্য হয়, ছেলে আবার শুয়ে পড়লো, না বাবা আমাকে আর একটু ঘুমাতে দাও। রবার্ট খুব রেগে গিয়ে খামারে চলে গেলো, ব্যেবসা দিন কে দিন বড় হতে লাগলো, মা ও ছেলের কোন ছিন্তা ভাবনা নেই

খাচ্ছে দাচ্ছে আর ঘুমচ্ছে বেশ আরামেই আছে,

এদিকে বেচারা রবার্ট প্রচণ্ড পরিশ্রম এর ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কিছুদিন পরে মারা যায়। বাবা মারা যাওয়ার ফলে মা আর ছেলে ভীষণ সমস্যায় পড়ে গেল, বাবা জীবিত থাকতে তার বাবার ব্যবসায়ের বিষয়ে মা ও ছেলে কোনও আগ্রহ দেখায় নি, কর্মচারী রা কি কাজ করছে ওরা তো কিছুই বুঝতে পারছে না, এভাবে ১ বছর চলার পর জন যখন ব্যবসার ব্যাপারে কিছু  কিছু বুঝতে আরম্ভ করলো, ততদিনে ব্যেবসা একেবারে তলানিতে ঠেকে গেছে........... 

তখন আর কিছু করার ছিল না।  এবার জন মা কে বললো কিভাবে আমাদের ব্যেবসা পুনরুধার করা যায় সেটা ভাবো, মা আর ছেলে কোন রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না, মা ছেলেকে বলছে একটা কাজ করি বাবা। আমার দাদা পাশের গ্রামের থাকেন তার এই ব্যবসায় সম্পর্কে ভালো জ্ঞান আছে। দাদার কাছে গেলে নিশ্চয়ই কিছু একটা সুরাহা হবে,

ঈশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করুন বলে পরদিন সকালে মা ও ছেলে মিলে দাদার কাছে রওয়ানা হয়ে গেলো, দাদার কাছে গিয়ে কিভাবে ব্যেবসা র ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে তা বর্ণনা করলো আর বললো দাদা তুমি ব্যাবসা টা কিভাবে পুনরুদ্ধার করি সে ব্যেপারে আমাদের সাহায্য করো। দাদা বললো শান্ত হয়ে বসো, নিশ্চয় করবো, কি করতে হবে বলো, এবার মা বললো তোমাকে কেবল একটি কাজ করতে হবে,  আমার স্বামী র মতো তুমি ও প্রতিদিন সকালে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে আমাদের খামারে গিয়ে আগের দিনের সব হিসাব পত্র দেখতে হবে আর কি কাজ করতে হবে সেটা কর্মচারী দের বুঝিয়ে দিতে হবে, এভাবে আমার ছেলেকে ব্যেবসার সম্পর্কে বুঝিয়ে দেবে। এই ভাবে মামার কথামত বছর খানিক চলার পর তাদের ব্যাবসা আগের জায়গায় ফেরত চলে আসে।

আবার তারা আগের মতো ধনী হয়ে উঠলো, মা তার দাদাকে অনেক ধন্যবাদ দিয়ে বললো অনেক ধন্যবাদ দাদা তুমি আমাদের পাশে না দাঁড়ালে আমরা মা ও ছেলে ভেসে যেতাম।

দাদা আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন, এখন থেকে জন ও তার বাবার মতো সকালে ঘুম্থেকে উঠে চার্চে গিয়ে প্রার্থনা করে খামারে চলে যায়। মা ঈশ্বর কে অসংখ ধনবাদ দিতে থাকেন। এভাবে মামার কথামতো চলে আবার আমাদের ব্যবসাটি প্রসার লাভ করেছে আর জন তার ভুল বুঝতে পেরেছে, সে তার অলসতা ছেড়ে খুব কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করেছে ।

বন্ধুরা গল্পটির থেকে কি বুঝলে ?

যে শুইয়া থাকে তার ভাগ্য ও শুইয়া থাকে..........

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমি একজন রিকশাওয়ালা

সৎ পুলিস অফিসার

আবিরের নরক যন্ত্রণা